৯৫৯৯ টাকায় নচ ডিসপ্লে, ৩ জিবি র‍্যাম – ওয়ালটন প্রিমো আর৬ রিভিউ

Written by

১০ হাজারের বাজেটে সেরা সব স্মার্টফোন নিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন প্রতিনিয়তই আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে। সাম্প্রতিক এইচ৮ টার্বো এবং এইচ৮ প্রো এর বাজিমাত তারই প্রমান। দামের হিসেবে ওয়ালটন এই দামে যে স্পেকস আমাদের দিচ্ছে তার তুলনা বাজারে খুঁজতে গেলে আপনাকে একটু কষ্টই পোহাতে হতে পারে।

প্রিমো আর৬ ম্যাক্স এর পড়ে এবার বাজারে চলে এলো প্রিমো আর৬, ব্যাপারটা একটু অবাক করারই মত, তবে ১০ হাজারের টাকার ভিতরে আরেকটি সেরা স্মার্টফোন হওয়ার জন্য এই প্রিমো আর৬ এর আগমন। আর যাদের পছন্দের তালিকায় আর৬ ম্যাক্স ছিল তারা এই আর্টিকেলটি পড়ে আরেকবার বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাম্প্রতিক আর৬ ম্যাক্স এর দাম ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি ১০৯৯৯ টাকা হলেও, এবার প্রিমো আর৬ এর রেগুলার দাম রাখা হয়েছে ৯৫৯৯ টাকা, অর্থাৎ ১০ হাজার টাকার নিচে।

আর৬ ম্যাক্স এর মতোই এই প্রিমো আর৬ এও আপনি পাচ্ছেন একই ১৩+২ মেগাপিক্সেল এর রিয়ার ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল। সুতরাং একই ভাবে প্রিমো আর৬ এর একটি অন্যতম মূল আকর্ষণ ডুয়াল ক্যামেরা। দ্বিতীয়ত এর দুর্দান্ত হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন, তা হল ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর এবং ৩ জিবি র‍্যাম। ১০ হাজারের ভেতরেই এরকম বান্ডেল এই স্মার্টফোনকে বানিয়ে দিয়েছে আরেকটি বাজেট কিলার! ফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে তিনটি কালারে, এগুলো হল; ক্রিমসন ডার্ক (অনেকটা খয়েরি এর মত), টুলাইট ব্লু এবং ডার্ক ব্লু। আর কালার তিনটিই খুবই অসাধারণ এবং ডিজাইনকে খুব ফুটিয়ে তুলেছে।

একনজরে ওয়ালটন প্রিমো আর৬ঃ

  • (১৩+২) মেগাপিক্সেল রিয়ার ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল
  • ফ্রন্ট ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ARM Cortex-A55, ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর
  • ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২ জিবি স্টোরেজ
  • ৬.০৯ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে (ইউ নচ/ডট নচ)
  • ৪০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি

বক্স এর ভেতর যা যা পাচ্ছেনঃ প্রিমো আর৬ ডিভাইসটি, চার্জিং আড্যাপ্টার, ইউএসবি চার্জিং ক্যাবল, সিম ইজেক্টর পিন, একটি হেডফোন, ইউজার ম্যানুয়াল এবং সেফটি ইন্সট্রাকশন।

ক্যামেরা

প্রথমেই আসি এর ক্যামেরা মডিউল এর দিকে। কেননা এটিই স্মার্টফোনটির অনেক আকর্ষণীয় একটি বিষয়, আর অনেকের প্রথম পছন্দও হতে পারে স্মার্টফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা ফিচার। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণত দু’প্রকার ক্যামেরা সেন্সর হয়, সিমোস এবং বিএসআই। আর বিএসআই সেন্সর যুক্ত ক্যামেরার লো লাইট পারফর্মেন্স অনেক বেশি ভালো হয় সিমোস এর তুলনায়। আর এই প্রিমো আর৬ এর রিয়ার এবং ফ্রন্ট দু’পাশেই থাকছে বিএসআই ক্যামেরা সেন্সর। সুতরাং অন্ধকারে ছবি কেমন আসবে না আসবে এই বিষয়ে চিন্তা নাও করতে পারেন।

ক্যামেরার লেন্সের ফোকাল লেন্থ এর অপর এর ছবির মান অনেকটা নির্ভর করে থাকে। এই ফোকাল লেন্থকে প্রকাশ করা হয় এপারচার দ্বারা। এপারচার নাম্বার যত ছোটো হবে ক্যামেরার ওপেনিং তত বড় হবে। আর এই ফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা মডিউলে আপনি পাচ্ছেন এপারচার এফ২.০। যা আপনাকে অবজেক্টকে তুলনামূলক ভালো ফোকাস পয়েন্টে রেখে খুব দারুন কিছু ছবি তুলতে সহায়তা করবে। এর এপারচার এফ২.০ আপানাকে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করতে অনেক সুবিধা দিবে।

অনেক ফোনে লেন্স এর বেপারটা খুব ভালোভাবে দেখা হয়না, তবে ভাল মানের লেন্স কিন্তু ছবিকে ক্লিয়ার ভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে কোয়ালিটিকে কিছু গুনে বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রিমো আর৬ ডিভাইসটির এই রিয়ার ক্যামেরা মডিউলে আপনি পাচ্ছেন ৫পি লেন্স, যা আপনার জন্য আরেকটি প্লাস পয়েন্ট।

ফ্রন্ট প্যানেলে সেলফি এবং সেলফ/ভিডিও কলিং এর জন্য পাচ্ছেন ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এর স্পেশাল ফিচার হিসেবেও থাকছে ৪পি ক্যামেরা লেন্স, মিররড সেলফি, ফেস ডিটেকশন ইত্যাদি। সেলফি লাভারদের জন্য এটি সত্যিই এই দামে অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট।

এতে থাকা বেশ কিছু শুটিং মোড ছবি এবং ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রে আপানাকে বেশ ভাল কোয়ালিটি উপহার দিবে। আর ডে লাইটে তো দুর্দান্ত বটেই, লো-লাইটেও এর পারফর্মেন্স এই সেগমেন্ট এর উপরের অনেক ফোনকেও হার মানাতে সক্ষম। বিস্তারিত ক্যামেরা ফিচার এবং মোড গুলো আপনি স্পেসিফিকেশন থেকেই খুব সহজে দেখে নিতে পাচ্ছেন। নিচে ক্যামেরা ইউআই সংযুক্ত করে দিলাম।

ইউজার ইন্টারফেস

ডিভাইসটিতে আপনি পাচ্ছেন, লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েডের পাই এডিশন। এর ইউজার ইন্টারফেস এর স্যাম্পল নিচে দেয়া হ্ল,

হার্ডওয়্যার এবং মেমোরি

একটি স্মার্টফোন এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাতে সিস্টেম হার্ডওয়্যার হিসেবে কি বিদ্যমান। ভালো বিল্ড কোয়ালিটি আউটপুট-ইনপুট হার্ডওয়্যার এবং ভালো সিস্টেম হার্ডওয়্যার একটি স্মার্টফোনকে আদর্শ স্মার্টফোনে পরিণত করে। আর এসব মিলে নির্ভর করে স্মার্টফোনটি গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিং এর জন্য কতোটা ভালো হবে। রিয়েল গেমিং এক্সপেরিয়েন্স হিসেবে বলতে গেলে প্রিমো আর৬ স্মার্টফোনটিতে আপনি হালের জনপ্রিয় যেসব গেমস রয়েছে; পাবজি, অ্যাস্পল্ট ৯ এগুলো অনায়াসে খেলতে পারবেন। আর এর ভেতর পাবজি খেলার জন্য যারা ১০ হাজার টাকার মধ্যে নতুন স্মার্টফোন খুঁজছেন, তারা এই প্রিমো আর৬ বাছাই করতে পারেন। পাবজি এর পাশাপাশি ফ্রিফায়ার গেমটি আরও বেশি স্মুথলি খেলা যাবে, যদিও পাবজিই সবার প্রথম টার্গেট সেটি খেলতে পারবেন সমস্যা হবে না।

ফোনটিতে থাকছে করটেক্স-এ৫৫ অক্টাকোর ১.৬ গিগাহার্জ প্রসেসর। আর এই অক্টাকোর প্রসেসর এর সাথে এতে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে পাবেন পাওয়ারভিআর জিই৮৩২২ জিপিইউ। এর অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, এতে পাওয়া যাবে ডিডিআর৪ ৩ জিবি র‍্যাম। আর ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে এতে পাওয়া যাবে ৩২ জিবি জায়গা।

এই সম্পূর্ণ সিপিইউ এবং মেমোরি এর সার্বিক পারফর্মেন্স আমরা ডিভাইসটির বেঞ্চমার্ক স্কোর থেকেই যাচাই করতে পাচ্ছি। ফোনটির এনটুটু বেঞ্চমারক স্কোর এসেছে ৭২৬৪১। গিক বেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে ১৪৮ এবং মাল্টি কোরে এসেছে ৭৯৯। সুতরাং স্কোর থেকে এর ক্ষমতা সম্পর্কে ধারনা আচ করতে পারছি নিশ্চয়ই।

ডিজাইন

এবার আসি ডিজাইনে। ডিজাইন এর কথা বলতে গেলে বর্তমান সময়ের সাথে একদম মানানসই। ডিসপ্লেকে আরও বেশি প্রসারিত করা এবং বেজেললেস কনসেপ্ট নিয়ে, বাইরের অন্যসব স্মার্টফোন ম্যনুফ্যাকচারারের মত ওয়ালটন এই ফোনে দিয়েছে ফুলভিউ ভিউইং অভিজ্ঞতা, সাথে নচ। ফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে উপরে অর্ধবৃত্ত আকৃতিতে ফ্রন্ট ক্যামেরা সহকারে যে কালো নচটি দেখতে পারবেন, একে বলা হচ্ছে ইউ নচ বা আমরা অনেকে ডট নচ হিসেবেও চিনি।

বাজারে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে তিনটি আকর্ষণীয় কালারে যেগুলো হচ্ছে ক্রিমসন ডার্ক ; যা কালোর মধ্যে অনেকটা খয়েরি ভাব, টুলাইট ব্লু (জেনারেল নীল কালারের মতই, নিচে একটু গ্র্যাডিয়েন্ট ফিনিস) এবং ডার্ক ব্লু। আর কোন কালারই কোনটির থেকে কম নয়। তবে আমার মতে আপনাদের ক্রিমসন ব্ল্যাক এবং ডার্ক ব্লু বেশি ভালো লাগবে আশা করি।

এর ব্যাক তথা রিয়ার প্যানেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি হাতের পৌঁছানোর সুবিধা হবে, এমন একটি মাঝামাঝি স্থানে আছে। আর ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল একটি ফ্ল্যাশ এর সাথে একদম ভারটিক্যাল ভাবে অবস্থান করছে; সব কিছু মিলিয়ে ডিজাইনকে দামের হিসেবে অনেকটা প্রিমিয়ামই মনে হবে আপনার কাছে। ফোনটির প্রসস্থতা ৭৩.৫ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১৫৫.৬ মিলিমিটার। এর পুরুত্ব ৮.৮৫ মিলিমিটার। ওজনের কথাও বলেই দেই, ব্যাটারি সহ প্রিমো আর৬ এর ওজন মাত্র ১৬৪ গ্রাম।

ডিসপ্লে

এতে পাওয়া যাবে ১৯ঃ৯ রেসিও সম্পন্ন (২.৫ডি কার্ভড) ৬.০৯ ইঞ্চি ফুলভিউ আইপিএস ডিসপ্লে। যার রেজুলেসন ১৫২০*৭২০ পিক্সেল, যার কারনে একে বলা হচ্ছে এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। আর অবশ্যই এর উপরে থাকছে একটি টপ ‘ইউ বা ডট’ নচ। যে নচের ভেতর আমরা পাব একটি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। ক্যামেরা সেন্সর এর উপরেই দেখা মিলবে ফ্রন্ট ইয়ারপিসের।

স্পেশাল ফিচারগুলো

স্ক্রিন রেকর্ডঃ স্মার্টফোনটির ভেতর আপনি বিল্ট ইন স্ক্রিন ভিডিও ক্যাপচার সুবিধা পাবেন। স্ক্রিন রেকর্ড করার জন্য আপনাকে আর আলাদা করে কোন অ্যাপ ইন্সটল করতে হচ্ছে না।

স্মার্ট কন্ট্রোলঃ স্মার্টফোনটির ভেতর আপনি বেশ কিছু স্পেশাল ফিচারস পাবেন।  যেমন স্মার্টফোনটি হাত দিয়ে তুললে আপনি টাইম নোটিফিকেশন ইত্যাদি সব দেখতে পাবেন।

স্মার্ট মোশনঃ নম্বর টাইপ করে ডায়াল বাটন না চাপ দিলেও হবে, ফোন কানের কাছে নিলেই কল ডায়াল হয়ে যাবে। একই ভাবে কোন কল আসলে আপনি কানের কাছে ফোন নিয়ে গেলে অটোম্যাটিক কল রিসিভ হবে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরঃ সিকিউরিটির জন্য আপনি এই ফোনের সাথে পাচ্ছেন একটি মোটামোটি ভালো রেসপন্স সম্পন্ন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

ফেস আইডিঃ  স্মার্টফোনটিতে আপনি ২ডি ফেস আনলক সুবিধা পাবেন।

ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং: আপনার দৈনন্দিন কার্যবিধি কে ট্র্যাক করার জন্য এই স্মার্টফোনের ভেতর থাকছে একটি বিশেষ ফিচার। আর যার নাম হচ্ছে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং।  আর এই ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং ডেভেলপ করেছে গুগল।  আর প্রিমো এস৭ ডিভাইসে এটি একটি স্পেশাল ফিচার হিসেবে থাকছে।

Article Categories:
রিভিউ

Leave a Reply

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *